উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নের উত্তর দাও

বিষয় সম্পর্কে পূর্বধারণা নিয়ে যে সকল শিক্ষার্থী এসেছিল কেবল তারাই শ্রেণিকক্ষের পাঠদান বুঝতে পারল। বোঝানোর জন্য শিক্ষক তো আছেনই, এই ভরসায় যারা শ্রেণিকক্ষে গিয়েছিল তাদের অর্জন শূন্য।

উদ্দীপকের শিক্ষক 'আমার পথ' প্রবন্ধের কার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ?

Updated: 3 months ago
  • গান্ধীজি
  • কর্ণধার
  • লেখক
  • পথ প্রদর্শক
37
ব্যাখ্যাঃ

কাজী নজরুল ইসলামের 'আমার পথ' প্রবন্ধে মূলত আত্মনির্ভরশীলতা, সত্যকে চেনা এবং অন্ধবিশ্বাস ও পরনির্ভরশীলতা পরিহার করার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। নজরুল ইসলাম বলেছেন, "আমার পথ দেখাবে আমার সত্য।" তিনি প্রতিটি মানুষকে নিজের 'কর্ণধার' (নেতা বা চালক) হতে এবং নিজের সত্যকে অনুসরণ করে পথ চলতে আহ্বান করেছেন।

উদ্দীপকের শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করেছেন, কিন্তু কেবলমাত্র তারাই তা বুঝতে পেরেছে যাদের বিষয় সম্পর্কে পূর্বধারণা ছিল। অন্যদিকে, যারা শুধুমাত্র এই ভরসায় গিয়েছিল যে 'বোঝানোর জন্য শিক্ষক তো আছেনই', তাদের অর্জন হয়েছে শূন্য। এখানে শিক্ষক শিক্ষার্থীদের জন্য একজন 'কর্ণধার' বা 'পথ প্রদর্শক' হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কিন্তু তার উপর সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করে থাকা শিক্ষার্থীদের কোনো লাভ হয়নি।

এই পরিস্থিতিটি 'আমার পথ' প্রবন্ধের মূল বার্তার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। নজরুল ইসলাম অন্ধভাবে কোনো নেতা, পীর-পয়গম্বর বা বাহ্যিক 'কর্ণধার'-এর উপর নির্ভর করতে বারণ করেছেন। তিনি বলেছেন, নিজের সত্যই মানুষকে পথ দেখাবে। উদ্দীপকের শিক্ষক সেই বাহ্যিক 'কর্ণধার'-এর মতো, যার উপর অন্ধভাবে নির্ভর করার কারণে শিক্ষার্থীদের অর্জন শূন্য হয়েছে। এটি নজরুল ইসলামের সেই শিক্ষাকেই প্রতিষ্ঠিত করে যে, আত্মপ্রস্তুতি ও আত্মনির্ভরশীলতা ছাড়া কেবল বাহ্যিক নির্দেশনার উপর নির্ভর করে সফল হওয়া যায় না। তাই উদ্দীপকের শিক্ষক 'আমার পথ' প্রবন্ধের সেই 'কর্ণধার'-এর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ, যার উপর অন্ধ নির্ভরতা প্রত্যাখ্যাত হয়েছে।

        
  • গান্ধীজি: প্রবন্ধে গান্ধীজির অহিংসা নীতি সম্পর্কে আলোচনা করা হলেও, তিনি সরাসরি উদ্দীপকের শিক্ষকের ভূমিকার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ নন।
  •     
  • কর্ণধার: প্রবন্ধের মূল বার্তা হলো নিজ সত্যের কর্ণধার হওয়া, অন্ধভাবে অন্যের উপর নির্ভর না করা। উদ্দীপকের শিক্ষক বাহ্যিক কর্ণধার হিসেবে কাজ করলেও, তার উপর অন্ধ নির্ভরতা ব্যর্থতা এনেছে, যা নজরুল ইসলামের বার্তারই প্রতিচ্ছবি।
  •     
  • লেখক: কাজী নজরুল ইসলাম নিজেই 'আমার পথ' প্রবন্ধের লেখক। তিনি দর্শনটি তুলে ধরেছেন, কিন্তু উদ্দীপকের শিক্ষক লেখকের মতো একজন দার্শনিক নন, বরং একজন শিক্ষাদানকারী যার পদ্ধতি একটি নির্দিষ্ট ফলাফল দিয়েছে।
  •     
  • পথ প্রদর্শক: 'কর্ণধার' এবং 'পথ প্রদর্শক' ধারণাগতভাবে কাছাকাছি। তবে 'কর্ণধার' শব্দটি প্রবন্ধে নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনার ক্ষেত্রে অধিক প্রাসঙ্গিক এবং ব্যবহৃত হয়েছে।
Satt AI
Satt AI
2 months ago


প্রবন্ধটি কাজী নজরুল ইসলামের সুবিখ্যাত প্রবন্ধগ্রন্থ 'রুদ্র-মঙ্গল' থেকে সংকলিত হয়েছে। “আমার পথ” প্রবন্ধে নজরুল এমন এক ‘আমি’র আবাহন প্রত্যাশা করেছেন যার পথ সত্যের পথ; সত্য প্রকাশে তিনি নিৰ্ভীক অসংকোচ । তাঁর এই ‘আমি’-ভাবনা বিন্দুতে সিন্ধুর উচ্ছ্বাস জাগায়। নজরুল প্রতিটি মানুষকে পূর্ণ এক ‘আমি’র সীমায় ব্যাপ্ত করতে চেয়েছেন; একইসঙ্গে, এক মানুষকে আরেক মানুষের সঙ্গে মিলিয়ে ‘আমরা’ হয়ে উঠতে চেয়েছেন। স্বনির্ধারিত এই জীবন-সংকল্পকে তিনি তাঁর মতো আরও যারা সত্যপথের পথিক হতে আগ্রহী তাদের উদ্দেশে ছড়িয়ে দিতে চান। এই সত্যের উপলব্ধি কবির প্রাণপ্রাচুর্যের উৎসবিন্দু। তিনি তাই অনায়াসে বলতে পারেন, ‘আমার কর্ণধার আমি। আমার পথ দেখাবে আমার সত্য।' রুদ্র-তেজে মিথ্যার ভয়কে জয় করে সত্যের আলোয় নিজেকে চিনে নিতে সাহায্য করে নজরুলের এই 'আমি' সত্তা। তাঁর পথনির্দেশক সত্য অবিনয়কে মেনে নিতে পারে কিন্তু অন্যায়কে সহ্য করে না। সমাজ ও সমকাল পর্যবেক্ষণের মধ্য দিয়ে প্রাবন্ধিক দেখেছেন যে, সুস্পষ্টভাবে নিজের বিশ্বাস আর সত্যকে প্রকাশ করতে না জানলে তৈরি হয় পরনির্ভরতা, আহত হয় আমাদের ব্যক্তিত্ব। নজরুলের কাছে এই ভগ্ন আত্মবিশ্বাসের গ্লানি গ্রহণযোগ্য নয়। এর পরিবর্তে তিনি প্রয়োজনে দাম্ভিক হতে চান; কেননা তাঁর বিশ্বাস – সত্যের দম্ভ যাদের মধ্যে রয়েছে তাদের পক্ষেই কেবল অসাধ্য সাধন করা সম্ভব।
নজরুল এই প্রবন্ধে দেখিয়েছেন যে, তিনি ভুল করতে রাজি আছেন কিন্তু ভণ্ডামি করতে প্রস্তুত নন । ভুল জেনেও তাকে ঠিক বলে চালিয়ে দেবার কপটতা কিংবা জেদ তাঁর দৃষ্টিতে ভণ্ডামি। এই ভুল ব্যক্তির হতে পারে, সমাজের হতে পারে কিংবা হতে পারে কোনো প্রকার বিশ্বাসের। তবে তা যারই হোক আর যেমনই হোক এর থেকে বেরিয়ে আসাই নজরুলের একান্ত প্রত্যাশা । তিনি জানেন, এই বেরিয়ে আসা সম্ভব হলেই মানুষের সঙ্গে মানুষের প্রাণের সম্মিলন ঘটানো সম্ভব হবে। মনুষ্যত্ববোধে জাগ্রত হতে পারলেই ধর্মের সত্য উন্মোচিত হবে, এক ধর্মের সঙ্গে অপর ধর্মের বিরোধ মিটে যাবে। সম্ভব হবে গোটা মানব সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করা; আর এই ঐক্যের মূল শক্তি হলো সম্প্রীতি। এই সম্প্রীতির বন্ধন শক্তিশালী হলে মানুষের মধ্যে সহনশীলতা বাড়ে। ভিন্ন ধর্ম-মত-পথের মানুষের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ জাগে । আর এই সম্প্রীতির মধ্য দিয়ে উৎকৃষ্ট মানব সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।

Related Question

View All
  • তিনি আত্মসত্য আবিষ্কার করতে পারেননি
  • তিনি আত্মনির্ভরতা অর্জন করতে পারেননি
  • তিনি আত্মসচেতনতা লাভ করতে পারেননি
  • তিনি আত্মোপলব্ধি করতে পারেননি
10
  • স্বাবলম্বন
  • সত্যের উপলব্ধি
  • আগুনের সম্মার্জনা
  • সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি
5
Updated: 3 months ago
  • দেশপ্রেম
  • সত্যের স্বরূপ
  • মিথ্যার প্রবঞ্চনা
  • ত্যাগের মহিমা
35
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র

Related Question

মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews

Question Analytics

মোট উত্তরদাতা

জন

সঠিক
ভুল
উত্তর নেই